
সংগৃহীত ছবি
দুই চোখে আলো না থাকলেও দমাতে পারেনি প্রবল ইচ্ছা শক্তি। এই শক্তিকেই হাতিয়ার করে শ্রেণিকক্ষজুড়ে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী। বইয়ের পাতা না দেখেও প্রযুক্তির সহায়তায় নিচ্ছেন ইংরেজির ক্লাস। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ শুনেই চিনে ফেলেন নাম, বুঝে নেন অবস্থান।
লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে চলছে ইংরেজি পাঠদান। কম্পিউটার, প্রজেক্টর ও স্ক্রিন রিডারের সহায়তায় সাবলীলভাবে ক্লাস নিচ্ছেন তিনি। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের কম্পিউটার পরিচালনা করে পাঠের প্রস্তুতি নেন তিনি।
মাত্র ১০ বছর বয়সে টাইফয়েডে এক চোখের দৃষ্টি হারান আজাদ। পরে ফুটবল খেলতে গিয়ে অন্য চোখে আঘাত পেলে ধীরে ধীরে সেই দৃষ্টিশক্তিও হারান। তবে থেমে যায়নি তাঁর পড়াশোনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০১০ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন।
শ্রেণিকক্ষে তাঁর সবচেয়ে বিস্ময়কর দক্ষতার একটি হলো শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ শুনেই নাম বলে দেওয়া। তাঁর ভাষায়, মানুষের কণ্ঠস্বর শুনে অনেক কিছু বুঝতে পারেন তিনি।
শুধু শিক্ষকতা নয়, ইংরেজি শেখাকে সহজ করতে বিভিন্ন শ্রেণির জন্য লিখেছেন ১০টি সহায়ক বই। আবৃত্তি, বিতর্ক, অভিনয় ও সংগীতেও রয়েছে তাঁর আগ্রহ।
শিক্ষার্থীদের কাছে আজাদ শুধু একজন শিক্ষক নন, প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। সহকর্মীরাও মনে করেন, তাঁর পাঠদানে কখনোই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
দুই চোখে দৃষ্টি নেই, কিন্তু প্রযুক্তি আর নিজের দক্ষতাকে সঙ্গী করে প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী। তাঁর গল্প যেন মনে করিয়ে দেয় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানুষের ইচ্ছা শক্তি মাধ্যমে সকল প্রতিকূলতাও নিজের আয়ত্বে আনা সম্ভব।
সালমান ইমন/টিআই