মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হতাশাজনক হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি দেখছেন কোচ। তার মতে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে সিঙ্গাপুরকে হারানোর সামর্থ্য ছিল জামাল ভূঁইয়াদের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের তুলনায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশকে ভিন্ন দল হিসেবে দেখা গেছে। খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া এবং বল দখলে রেখে ফুটবল খেলার চেষ্টায় তিনি সন্তুষ্ট। তার মতে, খেলোয়াড়রা মাঠে কী করতে চেয়েছেন, সেটিও স্পষ্ট ছিল।
ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে বাংলাদেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে কোচ বলেন, সুযোগগুলো কাজে লাগানো গেলে ফল বাংলাদেশের পক্ষে যেতে পারত। সমিতের একটি ভালো সুযোগ ছিল, তবে হেড থেকে গোল করতে পারেননি তিনি।
মালয়েশিয়া ম্যাচের পারফরম্যান্সে হতাশ থাকলেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের লড়াইয়ে সন্তুষ্ট কোচ। তিনি বলেন, এবার ১১ জন খেলোয়াড়ই লড়াই করেছে এবং সবাই বুঝতে পেরেছে, প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা না দিলে তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব।
গোল করার ক্ষেত্রে এখনও বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন কোচ। তার মতে, দলে এমন কোনো নিখুঁত স্ট্রাইকার নেই, যিনি নিয়মিত পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে গোল এনে দিতে পারেন। তবে সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে উন্নতির অন্যতম কারণ হিসেবে বল দখলে রেখে খেলার বিষয়টি উল্লেখ করেন কোচ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত লং বল খেলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলকে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে খেলতে হবে। ফুটবলে পরবর্তী কয়েক সেকেন্ডে কী হতে পারে এবং সতীর্থরা কোথায় অবস্থান করছে, তা বুঝে পরিকল্পনা করে খেলতে হয়।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির জন্য চলমান টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোচ। তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্টের লক্ষ্য শুধু সবাইকে হারানো নয়, বরং নিজেদের ভুল চিহ্নিত করে সেখান থেকে শেখা। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য বড় শিক্ষা ছিল এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
টুর্নামেন্টে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ থেকেও ইতিবাচক শিক্ষা নেওয়ার প্রত্যাশা কোচের। তার আশা, এসব অভিজ্ঞতা আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কাজে লাগবে।
এসএস