ছয়টি নতুন দল। তিনটি ভিন্ন ফরম্যাট। ৪২ ম্যাচের প্রতিযোগিতা। যেখানে থাকবে সাতটি চারদিনের ম্যাচ, ১৬টি ওয়ানডে এবং ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ঘরোয়া ক্রিকেটের তিনটি আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টি এবং বিসিএল ওয়ানডে ও চারদিনের আসরকে এক ছাতার নিচে এনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন প্রতিযোগিতা ‘ডি থ্রি’ টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হলো জমকালো আয়োজনে।
ছয়টি নতুন দল। তিনটি ভিন্ন ফরম্যাট। ৪২ ম্যাচের প্রতিযোগিতা। যেখানে থাকবে সাতটি চারদিনের ম্যাচ, ১৬টি ওয়ানডে এবং ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ঘরোয়া ক্রিকেটের তিনটি আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টি এবং বিসিএল ওয়ানডে ও চারদিনের আসরকে এক ছাতার নিচে এনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন প্রতিযোগিতা ‘ডি থ্রি’ টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হলো জমকালো আয়োজনে।
মূল প্রতিযোগিতা শুরু হবে ডিসেম্বরে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো আয়োজনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক। ১৫ ডিসেম্বর বরিশালে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়ে শুরু হবে আসর। এরপর জানুয়ারিতে হবে চারদিনের প্রতিযোগিতা। আগামী বছরের মে মাসে হবে ওয়ানডে আসর।
এই আয়োজনের জন্য ছয়টি দলও বিক্রি করেছে বিসিবি। এইস ব্লুব স্টার, সিনিজেন্স ব্যাংক, সেভেন রিংস সিমেন্ট, ফরচুন এবং ওয়ালটন গ্রুপ তিন বছরের জন্য ডি থ্রি প্রতিযোগিতার ফ্রাঞ্চাইজি কিনে নিয়েছে। টুর্নামেন্টের খরচের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আড়াই কোটি টাকা নিচ্ছে বিসিবি। খেলোয়াড়দের পেমেন্ট বিসিবি বহন করবে।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী সময়ই বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের লাভের ৫০ শতাংশ অর্থ ফ্রাঞ্চাইজি বা দলের মালিকদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হবে। টিকিট বিক্রি, জার্সি, স্পন্সরশিপ এবং টিভি রাইটস থেকে আয়ের বিরাট সম্ভাবনা দেখছেন তামিম ইকবাল।
উদ্বোধনী ঘোষণার পরপরই ছয় দল নিজেদের আইকন ক্রিকেটার বেছে নেয়। ওয়ালটন গ্রুপ প্রথম ডাকে দলে ভেড়ায় মেহেদী হাসান মিরাজকে। ফরচুন দলে নেয় তাওহীদ হৃদয়কে। একমি বেছে নেয় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। এরপর সেভেন রিংস সিমেন্ট মুশফিকুর রহিমকে, এইস ব্লু স্টার নুরুল হাসান সোহানকে এবং সিটিজেন্স ব্যাংক নাঈম শেখকে দলে নেয়।
প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে দলগুলো বাকি ক্রিকেটারদের দলে নেবে। সব মিলিয়ে ২৩ ক্রিকেটার দলে নেওয়া যাবে। ২৬ অক্টোবর হবে প্লেয়ার্স ড্রাফট। ২৯ সেপ্টেম্বর হবে ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট। যদিও সবগুলো দল এরই মধ্যে একজন করে পরামর্শক দলে নিয়েছে। ওয়ালটন নিয়েছে হাসিবুল হোসেন শান্তকে। একমিতে যোগ দিয়েছেন হাবিবুল বাশার সুমন। সিটিজেন্স ব্যাংকে সাজ্জাদ আহমেদ শিপন। বাকিদের নেয়া হবে ড্রাফট থেকে।
‘ঘরোয়া ক্রিকেটে রঙের ছটা’ স্লোগানে শুরু হচ্ছে ডি থ্রি টুর্নামেন্ট। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো বদলের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বলতে শুনেছি, ঘরোয়া ক্রিকেট তার রং হারিয়েছে, আগ্রহ নেই, অনেকের কাছে শুনেছি পিকনিক ক্রিকেট। যখন আমরা বোর্ডে আসি, এই জিনিসটা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম, কীভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ওই রংটা ফেরাতে পারি।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন এই উদ্যোগ দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারবে বলে বিশ্বাস যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের, ‘এই টুর্নামেন্ট আগামীর বাংলাদেশের ক্রিকেটই নয় শুধু, আগামীর বাংলাদেশের সব খেলাকেই অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ করবে। বছরের ছয় থেকে সাত মাস যদি আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট মাঠে রাখতে পারি, জাতীয় দলে যারা খেলে বা ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা খেলে, তাদের মধ্যে আকাশ–পাতাল তফাত দেখা যাবে।’
টুর্নামেন্টের জন্য ক্রিকেটাররা সবাই পাবেন সমান পারিশ্রমিক। কিছুদিন আগে যে আর্থিক কাঠামো ঘোষণা করেছে বিসিবি, সেই অনুযায়ীই ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা- প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেড় লাখ টাকা, একদিনের ম্যাচে এক লাখ ও টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা।
ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি, দল পরিচালনা ও অন্যান্য সব মিলিয়ে যত খরচ, এর অর্ধেক দেবে প্রতিষ্ঠানগুলো, অর্ধেক দেবে বিসিবি। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতি বছর যে বিপুল ব্যয় হয় বিসিবির, সেখান থেকে এখন বোর্ডের বেশ সাশ্রয় হবে বলে জানালেন সভাপতি তামিম, ‘এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক খরচ আমরা বাঁচাতে পারব। প্রতি বছরই বিসিবির এখানে অনেক খরচ ছিল। বিসিএলের সব ফ্র্যাঞ্চাইজি বোর্ডকেই চালাতে হতো। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এই টুর্নামেন্ট অনেক সফল কিছু হবে।’
জানা গেছে, তিনটি টুর্নামেন্টের জন্য আগে ৩০ কোটি টাকা খরচ করতো বিসিবি। নতুন রঙে, নতুন আয়োজনে ঘরোয়া ক্রিকেটকে সাজাচ্ছে বিসিবি। দেখার বিষয়, এই আয়োজন কতোটা সফলভাবে প্রত্যাশার পারদ মেটাতে পারেন।