মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
সোমবার দেওয়া এক আদেশে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়ম আটকে দেওয়া হয়েছিল। আদালত বলেছে, এ বিষয়ে প্রশাসনের আইনি চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ট্রাম্প গত মার্চে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম কঠোর করতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলোকে ডাকযোগে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা ডাক বিভাগের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট ধরনের খামে ব্যালট পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করা ব্যালট কিংবা নিবন্ধিত ভোটারের তালিকার সঙ্গে মিল না থাকা ব্যালট ডাক বিভাগ প্রত্যাখ্যান করতে পারত।
তবে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি ওই নিয়ম কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁর মতে, নিয়মটি মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি বাস্তবায়ন করাও কঠিন হবে।
এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করে। প্রশাসনের দাবি ছিল, ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে ডাক ব্যবস্থার সুরক্ষায় নতুন নিয়মটি প্রয়োজন।
আগস্টের শেষ দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রক্রিয়াগত কারণে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ এগিয়ে নেওয়ার সাময়িক অনুমতি দিলেও নিয়মটির বৈধতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
সর্বশেষ আদেশে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা প্রশাসনের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেন। তবে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস ভিন্নমত দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারপতি ব্রেট কাভানাও সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে থেকে প্রশাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
সমালোচকদের আশঙ্কা, ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ কার্যকর হলে হাজার হাজার ব্যালটের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং ডাকযোগে ভোটের ওপর বেশি নির্ভরশীল ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিনে ভোটের ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে।
ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করলেও এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও ট্রাম্প নিজে ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন।
এফএস