বরিশালে সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির (৫৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের ব্যুরো অফিস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম। পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালে ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
দৈনিক সমকালের বর্তমান অফিস প্রধান সুমন চৌধুরী বলেন, সমকালের সাবেক বরিশাল ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জি তাঁর স্ত্রীর ফোন ধরছিলেন না। বিষয়টি পুলকের স্ত্রী তাঁকে জানান।
এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সমকাল অফিসে আসেন। তখন অফিসের প্রবেশের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে পুলক চ্যাটার্জিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলক চ্যাটার্জি সবশেষ দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো প্রধান ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে সমকাল থেকে চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। সিনিয়র সংবাদকর্মী ও সাবেক ব্যুরো প্রধান হিসেবে মাঝেমধ্যেই তিনি সমকাল অফিসে এসে বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন।
সমকালের বর্তমান অফিস প্রধান সুমন চৌধুরী জানান, সাবেক ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র সংবাদকর্মী হিসেবে পুলক চ্যাটার্জির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অফিসে ঢোকার একটি চাবি তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার দিনের কোনো এক সময় ওই চাবি দিয়ে অফিসে ঢুকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় দৈনিক সমকালের পিয়ন দীপক অফিসে ছিলেন না। তিনি ছুটিতে ছিলেন। তাই ওই সময় অফিসে পুলক চ্যাটার্জি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।