ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত জয়পুরহাট হাসপাতালের রোগীরা
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ পিএম আপডেট: ১০.০৯.২০২৬ ৭:০৩ পিএম
X
Advertisement

২৫০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালকে গত ২ জুলাই ৪০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হয়নি। ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ৪০০ শয্যার এই হাসপাতাল। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী ভর্তি থাকেন। নির্ধারিত শয্যার অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি বহির্বিভাগেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন।

জয়পুরহাট জেলার রোগীদের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দিনাজপুরের হাকিমপুর, নওগাঁর ধামইরহাট ও বদলগাছী এবং বগুড়ার শিবগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে প্রতিদিনই রোগীর চাপ থাকে স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৪০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ৩০৫ জন চিকিৎসক, ২৩৫ জন নার্স ও ৪০৮ জন কর্মচারী প্রয়োজন। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩১ জন চিকিৎসক, ১২৫ জন নার্স ও ৪৫ জন কর্মচারী। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

এদিকে হাসপাতালে নাক-কান-গলা রোগের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। নেই কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেফ্রোলজিস্টও।


২০২২ সাল থেকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে কিডনি বিকল রোগীদের ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ জন কিডনি রোগীকে ডায়ালাইসিস দেওয়া হলেও শুরু থেকেই হাসপাতালে কোনো নেফ্রোলজিস্ট নেই। দ্রুত একজন নেফ্রোলজিস্ট নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটও প্রায় চার বছর ধরে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তবে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় এখনো আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আইসিইউ প্রয়োজন এমন রোগীদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়। সংকটাপন্ন রোগীদের ঝুঁকি নিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করতে গিয়ে অনেক সময় পথে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু জনবল নয়, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামেরও সংকট রয়েছে হাসপাতালে। সিটিস্ক্যান ও এমআরআই মেশিন না থাকায় রোগীদের এসব পরীক্ষা করতে বাইরে যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক রোগীকেই বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়।

রোগীরা ওষুধ সংকটেরও অভিযোগ করেছেন। জয়পুরহাট সদর উপজেলার দাদরা-জন্তিগ্রামের ভর্তি রোগী মানিক জানান, তাকে সিরাপ ও ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলেও হাসপাতালে ওষুধের সংকটের বিষয়টি জানা গেছে।

৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী জনবল ও ওষুধ পাওয়া গেলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হলে জয়পুরহাটসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার বিপুলসংখ্যক রোগী উপকৃত হবেন।

এসআই/আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement