বাবার কোলে ওঠার বয়সও হয়নি। বাবাকে ‘আব্বু’ বলে ডাকার আগেই বাবাকে হারাল ১৮ মাসের শিশু ফাতেমা আক্তার। বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ট্যাংক দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের একমাত্র মেয়ে এখন বাবার স্মৃতি নিয়েই বড় হবে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১টার দিকে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে পিয়াসের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনারের মাধ্যমে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহত পিয়াস মালিপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের একমাত্র ছেলে। চার বোনের আদরের ভাই ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের কারণে এলাকাবাসীর কাছে প্রিয় ছিলেন পিয়াস।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও ১৮ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের কোয়ার্টারে থাকতেন পিয়াস। মেয়েকে ঘিরে নতুন করে সাজানো সংসারে যখন আনন্দের সময়, ঠিক তখনই নেমে আসে শোকের ছায়া।
পিয়াসের চাচা মোশারেফ হোসেন বলেন, “দেড় বছর আগে ঘর আলো করে এসেছিল নাতনি। মেয়েকে নিয়ে পিয়াসের অনেক স্বপ্ন ছিল। সেই মেয়েকে রেখেই তাকে চলে যেতে হলো। বাবার ভালোবাসা কী, মেয়েটা সেটা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল।”
নিহতের ভগ্নিপতি আবু সাঈদ বলেন, “পিয়াস ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলত। কারও সঙ্গে কখনো খারাপ ব্যবহার করেনি। তার এমন অকাল মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দা এবাদ উল্যাহ বলেন, “পিয়াস খুব ভালো মানুষ ছিল। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, ছোট্ট মেয়েটাকে রেখে তাকে চলে যেতে হলো।”
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বুধবার হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই সেনাসদস্য নিহত হন। গুরুতর আহত এক সেনা কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, “দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণ সৈনিকের এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকব এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”
এমআর/আরএন