নওগাঁর সাপাহারে করমুডাঙ্গা জোয়াকিয়া দাখিল মাদ্রাসায় কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ২৯৯ জন থাকলেও সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৪ জন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৫ জন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাদ্রাসাটিতে গিয়ে দেখা যায়, দশম শ্রেণিতে মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষক পাঠদান করছেন। অন্য শ্রেণিকক্ষগুলো ছিল শিক্ষার্থীশূন্য। সব মিলিয়ে ওই সময় মাদ্রাসায় ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মাদ্রাসার সুপার মোজাম্মেল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ২৯৯ জন। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৫৮ ছাত্র ও ১৪ ছাত্রী, সপ্তম শ্রেণিতে ৩৭ ছাত্র ও ৭ ছাত্রী, অষ্টম শ্রেণিতে ৪৬ ছাত্র ও ১৩ ছাত্রী, নবম শ্রেণিতে ৪৬ ছাত্র ও ৯ ছাত্রী এবং দশম শ্রেণিতে ৬০ ছাত্র ও ৯ ছাত্রী রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম হলেও ১৫ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারী নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তাদের মাসিক বেতন বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৬ টাকা ব্যয় হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, শিক্ষার্থী সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। অথচ শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে আলিম শাখা ২০০১ সালে অনুমোদন পেলেও বর্তমানে এর কোনো কার্যক্রম নেই। এ বিষয়ে সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, সন্তোষজনক ফলাফল না হওয়ায় আলিম শাখার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী আছে। তবে কয়েকটি ক্লাস করার পর অনেকেই চলে যায় এবং পরে আর আসে না। কেউ টিফিন পিরিয়ডে চলে যায়, আবার কেউ বিভিন্ন অজুহাতে ছুটি নেয়।
এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জাহাঙ্গীর আলম মানিক /এফএস