কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পাড় ধসে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সী শিশু নূরিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার বিকেলে পাশের মিরপুর উপজেলার শিমুলতলা এলাকার মীর আব্দুল করিম কলেজসংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত নূরিয়া খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ গ্রামের আশিক শেখ ও নূরনাহার খাতুনের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকার মীর আব্দুল করিম কলেজসংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা মরদেহটি নদীর তীরে এনে আটকে রাখেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিথী খাতুন জানান, শিশুটির মরদেহ দৌলতপুরের দিক থেকে ভেসে ভাটির দিকে কুষ্টিয়ার অভিমুখে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে নৌ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শিশুটির স্বজনরা এসে নূরিয়ার মরদেহ শনাক্ত করেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে বুধবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া গ্রামে পদ্মা নদীর পাড়ে খেলতে গিয়ে হঠাৎ পাড় ধসে পানিতে পড়ে যায় দুই শিশু। এ সময় স্থানীয়রা ভুরকাপাড়া গ্রামের ইজাজুল মণ্ডলের সাত বছর বয়সী মেয়ে জামিলা খাতুনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নূরিয়া খাতুন তীব্র স্রোতে ভেসে যায়।
ঘটনার পর ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস, দৌলতপুর থানা পুলিশ এবং পরে খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে দীর্ঘ অভিযানেও নূরিয়াকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এসআই/আরএন