ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল’-এর অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১০৬টি মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মোবাইল ফোন ও টাকা প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার জনাব মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদর থানার দুটি হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কোটচাঁদপুর থানার ডাকাতি মামলায় ৩ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। সদর থানার দস্যুতা মামলায় ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার দস্যুতা মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং সদর থানার দুটি অপহরণ মামলায় ২ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ১৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১০৬টি হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন। একই সঙ্গে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভুলবশত চলে যাওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ২৮ জন ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নিখোঁজ হওয়া ২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মোবাইল ফোন ও টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার বলেন, “সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভরতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সাইবার বুলিং একটি গুরুতর সামাজিক ও আইনি অপরাধ। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মোসফেকুর রহমান এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেইউ/আরএন