বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে থানা পুলিশের উদ্যোগে কঠোর ও সর্বাত্মক সাঁড়াশি অভিযান চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানমের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে গত এক সপ্তাহে ১০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ১১টি পৃথক মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকাকে মাদক ব্যবসার আখড়া হিসেবে চিহ্নিত করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২ আগস্ট বিকেলে উপজেলা সদরে অভিযান চালিয়ে এলাকার অন্যতম চিহ্নিত মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদারকে আটক করা হয়।
আটকের সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ২৯ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি চাইনিজ কুড়ালসহ বেশ কয়েকটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ইলিয়াস তালুকদারের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় আগে থেকেই আটটি মামলা রয়েছে। এছাড়া চলমান অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের এ কঠোর পদক্ষেপের পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, নবাগত ওসি রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স অভিযান শুরু হওয়ায় চিহ্নিত মাদকের গডফাদাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের সাহসী পদক্ষেপকে বিতর্কিত করার সব ধরনের অপচেষ্টার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, শরণখোলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে মাঠে কাজ করছে। কোনো অপশক্তি বা অপপ্রচারের কাছে নতি স্বীকার না করে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
এমআর/আরএন