কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুটি বাস, দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, একটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসসহ অন্তত ছয়টি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় দুই বাসের মাঝখানে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, সামনে থাকা আরেকটি অটোরিকশা, একটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
আহতদের মধ্যে দিনেশ (৬৫), ঝর্ণা রাণী (৫০), টিপু (২২) ও রেজিয়া (৭০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর আহত ঝর্ণা রাণীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মামুন মিয়া বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারানো দিগন্ত পরিবহনের বাসটি একের পর এক কয়েকটি যানবাহনে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
দিগন্ত পরিবহনের যাত্রী নাহিদ ইসলাম বলেন, ভৈরব টোলপ্লাজার কাছে পৌঁছানোর পর বাসটির ব্রেক কাজ করছিল না। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা যানবাহনে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় তিনিও আহত হন।
আরেক যাত্রী সিরাজুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর চালক গুরুতর আহত হন।
ভৈরব হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত যান উদ্ধার করে। গুরুতর আহত পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর দুটি বাসের চালকই পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আরএন