জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, “সরকার জনগণের স্বপ্ন ধ্বংস করে দিচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।”
রোববার (২৬ জুলাই) ঝিনাইদহ জেলা এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক পদযাত্রা শেষে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি দলীয় পদধারী নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানেও দলীয় পরিচয়ধারী ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে সরাসরি দলীয় পদধারী কাউকে নিয়োগ দেওয়ার যে নজির বিএনপি স্থাপন করেছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই নিয়োগ বাতিল করতেই হবে।”
এনসিপির সদস্য সচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দেশ। জনগণ কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেবে না। দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন চেয়েছে, তাই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা জনগণের প্রত্যাশার বিপরীত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরোয়ার তুষার বলেন, শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করে দেশে ফেরার কথা বললেও তাকে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন করেনি।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি ও ছিনতাই বেড়েছে এবং সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটছে।
এর আগে দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘জুলাই পদযাত্রা ও শহিদদের স্মরণে’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে পদযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পায়রা চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এদিন সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জুলাই আন্দোলনে নিহত শহিদ ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল ইসলাম ও শহিদ সাব্বির হোসেনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জেডইউআর/এসআর