দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে এ সংকট নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হচ্ছে। তবে দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) দিয়ে এর বেশি এলএনজি আমদানি সম্ভব নয়। ফলে রাতারাতি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি জানান, সরকার আরও দুটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানাগুলো তাদের স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার (ইনস্টলড ক্যাপাসিটি) প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে না। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার এ সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকলেও চলতি অর্থবছরে রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলে সরকার আশাবাদী। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ থেকে ৬টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে।
জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কবে কার্যকর হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনে জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি উপস্থাপন করা হবে। সংসদের অনুমোদনের পর তা কার্যকর হবে।
সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং বিভিন্ন রপ্তানিমুখী খাতের সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রয়োজনে এ প্রতিবেদনের জন্য আরও সংক্ষিপ্ত, আকর্ষণীয় বা প্রথম পাতার উপযোগী শিরোনামও তৈরি করে দিতে পারি।
এসআর