টানা নয় দিনের ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন কক্সবাজারের কৃষকেরা। বন্যার পানিতে রোপা আউশ, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি ও পানবরজ তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে হচ্ছে তাদের।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জেলার ১০ হাজার ৭৭৮ জন কৃষককে ৫ কেজি করে ধানের বীজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি সবজির বীজ বিতরণ এবং যেসব কৃষকের নিজস্বভাবে বীজতলা তৈরির সুযোগ নেই, তাদের জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক বীজতলা থেকে চারা সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়ায়। সেখানে ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ১ হাজার ১২০ হেক্টর, পেকুয়ায় ৫০০ হেক্টর, রামুতে ৩৪০ হেক্টর, মহেশখালীতে ২৩৭ হেক্টর, টেকনাফে ১৪০ হেক্টর, কক্সবাজার সদরে ৮৮ হেক্টর, ঈদগাঁওয়ে ৭৫ হেক্টর এবং উখিয়ায় ৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার নয়টি উপজেলায় ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চকরিয়ায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন, পেকুয়ায় ৭ হাজার ২০ জন, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৪১৫ জন, রামুতে ৪ হাজার ৮৭৫ জন, মহেশখালীতে ৪ হাজার ৩২০ জন, টেকনাফে ৩ হাজার ১২০ জন, ঈদগাঁওয়ে ১ হাজার ৩০৪ জন, কক্সবাজার সদরে ১ হাজার ১৬৬ জন এবং উখিয়ায় ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক রয়েছেন।
সোমবার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা আবারও জমি প্রস্তুত, আমনের বীজতলা তৈরি ও বীজ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত উৎপাদনে ফেরার চেষ্টা করছেন তারা।
উখিয়ার মরিচ্যা এলাকার কৃষক আলী হোসেন বলেন, বন্যায় তার আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। সবজির ক্ষেতও পানিতে তলিয়ে ছিল। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, বানের পানিতে পুরো বীজতলা নষ্ট হয়েছে। নতুন করে চাষ শুরু করতে বীজের প্রয়োজন। সরকারি সহায়তা পেলে ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, বন্যায় কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ৭৭৮ জন কৃষকের মধ্যে ধানের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবজির বীজও দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব কৃষকের নিজস্বভাবে বীজতলা তৈরির সুযোগ নেই, তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কমিউনিটি ভিত্তিক বীজতলা তৈরি করা হবে। সেখান থেকে চারা নিয়ে কৃষকেরা আমন আবাদ করতে পারবেন।
ড. বিমল কুমার প্রামানিক জানান, এবারের বন্যায় কক্সবাজারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪৩ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষকদের দ্রুত উৎপাদনে ফেরাতে প্রণোদনা ও অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এএইচএসইউ/এসআর