বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমুদ্র। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ আহরণ বন্ধ রেখে গত তিন দিন ধরে শত শত ফিশিংবোট সুন্দরবন ও উপকূলের বিভিন্ন নিরাপদ খালে আশ্রয় নিয়েছে।
মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে আবারও প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা। লঘুচাপের প্রভাবে সাগরে বড় বড় ঢেউ, প্রবল পূর্বালী ঝড়ো হাওয়া এবং থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সুন্দরবনের দুবলার মেহেরআলী খালে আশ্রয় নেওয়া বাগেরহাটের বগা এলাকার ফিশিংবোট ‘এফবি সখিনা’র মাঝি মোশারেফ হোসেন এবং ভেদাখালী খালে অবস্থানরত পাড়েরহাট এলাকার মাঝি দুলাল হাওলাদার শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে মুঠোফোনে জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন ধরে তারা সাগরে যেতে পারেননি।
তারা বলেন, “সাগর এখন খুবই উত্তাল। বড় বড় ঢেউয়ের সঙ্গে প্রবল পূর্বালী বাতাস বইছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টিও হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে সুন্দরবনের মেহেরআলী, আলোরকোল, ভেদাখালী, নারিকেলবাড়িয়া, কচিখালীসহ বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছি। অনেক ফিশিংবোট আবার উপকূলের ঘাটে ফিরে গেছে।”
বগা এলাকার আরেক ফিশিংবোটের মাঝি নজরুল ইসলাম বলেন, “সাগরের পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা বোট নিয়ে ঘাটে ফিরে এসেছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার মাছ ধরতে সাগরে যাব।”
শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, গত তিন দিন ধরে শত শত ফিশিংবোট পাড়েরহাট, রায়েন্দা, মহিপুর, নিদ্রাসখিনা, পাথরঘাটা এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, “৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত এক মাসে জেলেরা তিন দফা বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়েছেন। বারবার মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হওয়ায় জেলে ও ট্রলার মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সাগরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে আশ্রয় নেওয়া ফিশিংবোটগুলোর নিরাপত্তায় বনরক্ষীরা নজরদারি বাড়িয়েছেন। জেলেদের যেন কোনো ধরনের অসুবিধায় পড়তে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
মৎস্য প্রজনন রক্ষায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা নতুন করে সাগরে মাছ ধরতে নামলেও টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দফায় তাদের মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই জেলে ও ট্রলার মালিকদের আয়-রোজগারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এমআর/আরএন