ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ওমর হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি মুরাদ দম্পতির, উঠান থেকে লাশ উদ্ধার
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম
X

খুলনায় পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ইজিবাইক চালক পঙ্গু মারুফ সর্দার ওরফে ওমর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুন ওরফে শোভা মনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম খলিলের আদালতে তারা এ জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৩ মার্চ সন্ধ্যায় মারুফ সর্দারকে কৌশলে মুরাদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করানো হলেও তিনি অচেতন না হওয়ায় রাতে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গভীর রাতে বাড়ির উঠানে মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, নিহত মারুফ সর্দার খালিশপুর থানার পিপলস পাঁচতলা ব্যাচেলর কলোনিতে মা, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। জীবিকার তাগিদে তিনি ইজিবাইক চালাতেন। গত ৩ মার্চ সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে খালিশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে ফাল্গুনী খাতুনের সঙ্গে মারুফের পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন কৌশলে তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই তাকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।

তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য প্রথমে অন্যত্র ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও পরে বাড়ির উঠানেই মাটি চাপা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইজিবাইকটি টুকরো টুকরো করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর মুরাদ ও ফাল্গুনীর মধ্যে বিয়ে হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ফাল্গুনী মুরাদকে বিয়েতে বাধ্য করেছিলেন বলে আসামিদের জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে পরবর্তীতে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুলাই রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ফাল্গুনী খাতুন থানায় এসে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে কথোপকথনের একপর্যায়ে নিখোঁজ মারুফ সর্দার হত্যার তথ্য প্রকাশ করেন। এরপর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে মুরাদ মোল্লাকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বোন লিনা খাতুন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মামুন হোসেন জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এসএমএস/এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝