নওগাঁয় ডাবের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ও মানুষকে ভুলভাল বুঝিয়ে টাকা-পয়সা এবং মালামাল হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাঁদের কাছ থেকে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, মোবাইল, নগদ টাকা ও ঘুমের ওষুধ জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়। এর আগে বগুড়া ও গাইবান্দা জেলায় একটানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার লোহাই মুরি এলাকার মন্ত মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনা জেলার খেজুর তলা এলাকার ইসাইল হোসেনের ছেলে হুমায়ন কবির (৫০), বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুল দিঘি পূর্ব পাড়া এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে খাজা মিয়া (৫৬), গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই এলাকার ছই মুদ্দিনের ছেলে আব্দুল গফুর (৪১)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১০ জুলাই নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যাক্তি অটোরিকশা রিজার্ভ ভাড়া নেয়। পরে হাসপাতালে পৌঁছালে আরো দুইজন ব্যাক্তি নবাগত শিশু জন্ম গ্রহণ করায় তাদের মিষ্টি খেতে দেয়। এর মাধ্যমে তারা চালকের বিশ্বাস অর্জন করে পরে চালককে একটা ডাব খেতে দেয়। যে ডাবের মধ্যে আগেই বিষাক্ত চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে রাখা হয়। চেতনানাশক মিশ্রিত সেই ডাবের পানি খেয়ে চালক অজ্ঞান হয়ে পড়লে এই সুযোগে তারা অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন অপরাধীদের ডাটা বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসামি সনাক্ত করে বগুড়া ও গাইবান্দা জেলায় একটানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আসামীদের কাছ থেকে চুরি হওয়া অটোরিকশা, ঘুমের ওষুধ, ১টি মোটরসাইকেল, ৮টি মোবাইল ও ১১ হাজার ৪৩০ টাকা জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আসামী ইব্রাহিম এবং হুমায়ুন এর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু মামলা আছে। কয়েক বছর যাবৎ তারা মানুষকে ডাবের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ও মানুষকে ভুলভাল বুঝিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতেন। অপর দুই আসামী খাজা মিয়া এবং আব্দুল গফুর প্রতারকদের সম্পদ কিনে বিক্রি করে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কেকেএইচ/এসআর