বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২০১৪ সালের শেষ ষোলোর পরাজয় এখনো ভুলতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। এক যুগ পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নকআউট পর্বে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সুইসরা। এবার লক্ষ্য শুধু সেমিফাইনালে ওঠা নয়, পুরোনো সেই আক্ষেপও ঘোচানো।
কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার শেষ আটে ওঠা দলটি আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত। তবে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
২০১৪ সালের ম্যাচটির স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকাকে। অতিরিক্ত সময়ে হেরে বিদায় নেওয়া সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, '২০১৪ সালের হার আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছিল। সেবার আমরা প্রায় তাদের ধরে ফেলেছিলাম।'
সুইস শিবিরের বিশ্বাস, আগের তুলনায় দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। গোলবারের নিচে গ্রেগর কোবেল আস্থার প্রতীক। মাঝমাঠে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লারের সমন্বয় দলকে দিয়েছে ভারসাম্য। আর কোচ মুরাত ইয়াকিনের কৌশলী পরিকল্পনায় সুইজারল্যান্ড হয়ে উঠেছে আরও সংগঠিত একটি দল।
ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো এই ম্যাচকে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, 'সম্ভবত এটি আমার, আমাদের দল এবং পুরো জাতির জন্য সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।'
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি লিওনেল মেসি হলেও, এবারের টুর্নামেন্টে কয়েকটি ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে পড়তে হয়েছে। সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগাতে চায় সুইজারল্যান্ড। দলটির বিশ্বাস, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে দলগত শৃঙ্খলা।
সাবেক সুইস মিডফিল্ডার ব্লেরিম জেমাইলিও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, 'আর্জেন্টিনার রয়েছে অসাধারণ কিছু ব্যক্তিগত তারকা। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি একটি সংগঠিত দল হিসেবে খেলা।'
পরিসংখ্যানও কিছুটা আশার কথা শোনাচ্ছে সুইসদের। ২০২২ বিশ্বকাপে পর্তুগালের কাছে হারের পর বড় কোনো টুর্নামেন্টে নির্ধারিত সময়ে আর পরাজিত হয়নি তারা।
ইতিহাস অবশ্য সুইজারল্যান্ডের পক্ষে নয়। ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে শেষবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নেমে অস্ট্রিয়ার কাছে ৭-৫ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল দলটি। সাত দশক পর আবার শেষ আটের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এবার তাদের লক্ষ্য শুধু ভালো লড়াই নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লেখা।
-টিএস