শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই ছিল সমানে সমান। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ভাগ্য বদলে দেয় স্পেন। বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর গোলে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লা রোজা। লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে এই হারে বিদায় নিতে হয়েছে রোমেলু লুকাকুর বেলজিয়ামকে।
২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথমবারের মতো শেষ চারে উঠল স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। এর ফলও পায় প্রথমার্ধে। ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্প্যানিশরা। তবে বেশিক্ষণ সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি তারা। চার্লস ডি কেটেলায়েরের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। কেভিন ডি ব্রুইনে ও ম্যাক্সিম ডি কুইপার স্পেনের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও গোল আদায় করতে পারেননি। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল ও মিকেল ওয়ারইয়াসাবালের আক্রমণে বারবার ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় বেলজিয়ামের গোলরক্ষকদের। থিবো কুর্তোয়া এবং পরে ইনজুরির কারণে তার বদলি সেনে ল্যামেন্স একাধিক দারুণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই আসে নির্ধারক মুহূর্ত। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের মাথায় জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন মিকেল মেরিনো। পাও কুবারসির শট ল্যামেন্স ঠেকালেও ফিরতি বল কাছ থেকে জালে জড়িয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
শেষ কয়েক মিনিটে বেলজিয়াম সমতায় ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও স্পেনের দৃঢ় রক্ষণ সেই সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠে স্প্যানিশ শিবির, আর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের।
এবার সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ টানা দুই আসরের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স। ইউরোপের দুই পরাশক্তির মহারণ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা এখন তুঙ্গে। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে লা রোজা।