টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ১৭টি ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বন্যার পানিতে ডুবে রাজনগর উপজেলায় মো. আশরফ মিয়া ওরফে আসই মিয়া নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে টেংরা ইউনিয়নের ভাঙারহাট-আকুয়া এলাকার রিং বাঁধসংলগ্ন স্থান থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বন্যায় হাজারো বাড়িঘর, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। আউশ ধান, শীতকালীন সবজি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের সংকট।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শুক্রবার বিকেল ৫টায় মনু নদীর চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যদিও উজানে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবে ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনগর উপজেলা। টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নের বহু গ্রাম এখনো পানির নিচে রয়েছে। কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কুলাউড়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বিপুল সিকদার বলেন, “পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, “মনু নদীর আরও ৪ থেকে ৫টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে এবং সেগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, “জেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।”
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, “জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
এসএস/আরএন