বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে মরক্কো। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি তাদের সামনে। তবে পথের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় বোস্টন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। দুই দলের কাছেই ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক। ফ্রান্সের লক্ষ্য টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া, আর মরক্কোর লক্ষ্য নতুন ইতিহাস লেখা।
ইনজুরি ও কার্ডের চাপে মরক্কো
কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো। আক্রমণের অন্যতম ভরসা ইসমাইল সাইবারি চোটের কারণে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। এমনকি দলের স্কোয়াডেও থাকছেন না তিনি। তার জায়গায় মাঠে নামা সোফিয়ান রাহিমি গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে তাকে।
অন্যদিকে চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ক্রিস্টাল প্যালেসের ডিফেন্ডার চাদি রিয়াদ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে শুরুর একাদশে তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মরক্কোর চিন্তার বড় কারণ হলুদ কার্ডের ঝুঁকি। দলের চার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়—আশরাফ হাকিমি, ঈসা দিয়প, আজেদিন ওউনাহি ও আল খানুস—নকআউট পর্বে একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছেন। ফলে তাদের নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে কোচকে।
ফ্রান্সেও পরিবর্তনের আভাস
ফ্রান্সের একাদশেও আসতে পারে পরিবর্তন। ইনজুরির কারণে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারেননি মিডফিল্ডার অঁরেলিন চুয়ামেনি। অনুশীলনে ফিরলেও মরক্কোর বিপক্ষে তাকে শুরু থেকে খেলানোর ঝুঁকি নাও নিতে পারেন কোচ।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকা ব্রাডলি বারকোলার জায়গায় দেখা যেতে পারে ডিজেরি দুয়েকে। আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে পেনাল্টি আদায় করেছিলেন তিনি, যা থেকে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
তারকায় ভরা ফ্রান্স, আত্মবিশ্বাসী মরক্কো
ফ্রান্সের আক্রমণভাগের মূল শক্তি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান ডেম্বেলে। তাদের গতি ও ব্যক্তিগত দক্ষতা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তবে মরক্কোও নিজেদের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা ও দলীয় লড়াইয়ের মাধ্যমে বড় দলকে চাপে ফেলার ক্ষমতা দেখিয়েছে।
সম্ভাব্য একাদশে ফ্রান্স নামতে পারে—মাইক মাইগন্যান, জুলেন কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়ত উপামেকানো, লুকাস ডিগনি, মানু কোনে, আন্দ্রে রাবিওট, মাইকেল ওলিস, উসমান ডেম্বেলে, ডিজেরি দুয়ে ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে।
মরক্কোর সম্ভাব্য একাদশ—ইয়াসিন বোনো, আশরাফ হাকিমি, ঈসা দিয়াপ, চাদি রিয়াদ, নওসের মাজরাওই, আইয়ূব বোয়াদ্দি, আল আইনওই, আজেদিন ওউনাহি, আল খানুস, ব্রাহিম দিয়াজ ও সুফিয়ান রাহিমি।
একদিকে ফ্রান্সের আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবলের নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন—সব মিলিয়ে বোস্টনের রাতের এই ম্যাচ হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।