স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বাংলাদেশকে বসবাসযোগ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।
রাজধানীর প্রবেশদ্বার সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার ভাগাড় অপসারণে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছিল। এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও সাভার পৌরসভার প্রশাসনিক সীমা নিয়ে জটিলতার কারণে কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল। ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সেখানে নির্বিচারে বর্জ্য ফেললেও তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উদ্যোগ ছিল না।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে ময়লার ভাগাড় অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কার্যক্রম যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, সাভার উপজেলা প্রশাসন ও ঢাকা জেলা প্রশাসন।
মীর শাহে আলম জানান, ময়লা অপসারণের পর সেখানে বালু ভরাট, নেটিং স্থাপন এবং নিমগাছ রোপণ করা হবে। পাশাপাশি সাভার পৌরসভার জন্য একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও বর্জ্য ফেলা না হয়।
তিনি বলেন, “আমরা আগের সরকারের মতো বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। তবে বাংলাদেশকে বসবাসযোগ্য এবং মানুষের সুস্থভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার উপযোগী পরিবেশে পরিণত করতে রাষ্ট্রের যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।”
বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বর্ষায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সড়ক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও মুখগুলো পরিষ্কার রাখার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।
ওএফ/এসআর