খুলনা নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ নগর গড়ে তুলতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। সরকারের ঘোষিত দেশব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর প্রতিটি ড্রেন বর্জ্যমুক্ত করা, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তারের স্থানসমূহ ধ্বংসে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর নতুন বাজার আবু হানিফ মাদরাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব কায়সারের উদ্যোগে ২২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা সাধারণত সকালবেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মশামুক্ত রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে মশার প্রজনন রোধ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এ বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর ফলে একদিকে যেমন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার হবে, অন্যদিকে ড্রেনসমূহে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে নগরবাসী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকেও অনেকটাই মুক্তি পাবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে কেসিসি প্রশাসক বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান।
পরে তিনি মাদরাসা প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান হাবিবুর রহমান, সমাজসেবক ইউসুফ হারুন মজনু, তরিকুল্লাহ খান, জাহিদ কামাল টিটু, জিয়াউর রহমান জিয়া, সিরাজুল ইসলাম লিটন, খান মঈনুল হাসান মিঠুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে কেসিসি প্রশাসক নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লোয়ার যশোর রোড ও হাজী মহসিন রোড-সংলগ্ন ড্রেন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ড্রেনের পলি ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ ছাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া ইনফ্যান্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সানফাওয়ার স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, মশক নিধন কার্যক্রম ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় শিক্ষকদের বিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেসিসির সহযোগিতা সবসময় অব্যাহত থাকবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন নগর গঠন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কেসিসির এই সমন্বিত উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এসএস/আরএন