ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তি (ধর্মতীর্থ) গ্রামের মধ্যে বাঁশের পাটির পাওনা টাকা ও মাছ ধরার পাড়ি (বেড়) নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার (২৯ জুন) বিকেলে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কালীকচ্ছ বাজার ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং হামলার ঘটনা ঘটে। বাজারের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট এবং কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে ধরন্তি চাকসার এলাকার মৃত শামসু মিয়ার ছেলে মো. হাদিম (হাদিস) মিয়া (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নিহতের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে সংঘর্ষ থামানোর সময় সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়াসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালেও কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। থেমে থেমে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের সঙ্গে ধরন্তি গ্রামের কয়েকজনের বাঁশের পাটির পাওনা টাকা এবং মাছ ধরার পাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষ থামানোর সময় থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।
এসআর/আরএন