কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের বড় ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রেমিকা নাইমা জাহান ও বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামছুল আরেফিন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রেমিকা নাইমা জাহানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ফোনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মরহুম জলিল মৃদার মেয়ে নাইমা জাহানের সঙ্গে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়ামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে দুজনে ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে কয়েকবার রাত্রিযাপন করেন। সম্প্রতি নাইমা জাহানের তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে সিয়াম। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা করতে থাকে। এরই মধ্যে সিয়াম নাইমা জাহানকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেয়। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রাখতে নাইমা রোববার রাতে লক্ষীপুর গ্রামে সিয়ামের পুরোনো বাড়িতে আসেন। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা জাহান ও সিয়ামের বন্ধু, পাশবর্তী বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের কাজী বাড়ির আরিয়ান রাত্রিযাপন করেন।
ভোরে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম প্রেমিকা নাইমা জাহানকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন, যাতে আশপাশের কেউ না দেখে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন প্রেমিকা নাইমা জাহান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু আরিয়ান। সিয়ামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নাইমা জাহান ও বন্ধু আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সামছুল আরেফিন বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে।