শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের মোট প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম টিকটক ও ইউটিউব। ইন্দোনেশিয়ায় নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটালমন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ ২৫ জুন সন্ধ্যায় জানান, চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক ৪১ লাখ এবং গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউব ৬ লাখ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। তিনি বলেন, অন্যান্য প্ল্যাটফর্মও যেন একইভাবে বিধিমালা বাস্তবায়ন করে, সে প্রত্যাশা সরকারের।
গত মার্চে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে নতুন একটি বিধিমালা চালু করে ইন্দোনেশিয়া। এতে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বর্তমানে টিকটক, ইউটিউব, এক্স, মেটার ইনস্টাগ্রাম এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম রোবলক্স এই বিধিমালার আওতায় রয়েছে। বয়সসীমা কার্যকরের দায়িত্ব অভিভাবক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর না দিয়ে সরাসরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বয়স যাচাই করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেই পালন করতে হবে।
এ পর্যন্ত শুধু টিকটক ও ইউটিউবের তথ্য প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও রোবলক্সে কতটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সরকারের মতে, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সাইবার বুলিং, অনলাইন আসক্তি এবং মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য এসব ঝুঁকি কমিয়ে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত বছর অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করে। এছাড়া যুক্তরাজ্যও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নীতিমালা আরও কঠোর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দেশটি জানিয়েছে, নতুন নিয়মের আওতায় গেমিং ও লাইভস্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে শিশু ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কী পদ্ধতি ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইন্দোনেশিয়া সরকার। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য জানানো হতে পারে।
-টিএস