কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর) চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীন মধুগাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ১৫৪/১০-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে আলী আজগর নামের এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।
এ সময় সীমান্তবর্তী মাঠে কর্মরত বাংলাদেশি কৃষক ও বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীন রামকৃষ্ণপুর বিওপির একটি টহল দল বিষয়টি টের পায়। পরে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় কৃষকেরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ওই ব্যক্তিকে পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
বিজিবি ও জনতার বাধায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ওই বৃদ্ধ বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় বিজিবি সদস্যরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন।”
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে গত ১২ জুন ভোরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা দুই দেশের শূন্যরেখার কাছাকাছি ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি পাটখেতে আটকা পড়েন।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনড় অবস্থানের পর দীর্ঘ ৮০ ঘণ্টা পর ১৫ জুন বিজিবি-বিএসএফের জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মাধ্যমে পুশইনের শিকার ওই ১২ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এসআই/আরএন