শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে শহরে অবস্থান করছেন, তাদের পুনরায় গ্রামে পাঠানো হবে। গ্রামে শিক্ষক সংকট রেখে শহরে সুবিধাভোগীভাবে শিক্ষকতা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা বিভাগীয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক সংকট রয়েছে, যা শিক্ষার মানোন্নয়নের পথে বড় বাধা। এ সংকট দূর করতে পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে এখন সনাতন পদ্ধতির নকল প্রায় নেই, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিজিটাল নকল’ ও প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
ড. এহছানুল হক মিলন জানান, আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করা হবে। এ কর্মসূচিতে খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও মেধা বিকাশে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। কোনো অসাধুতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের চাকরিচ্যুতিসহ আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্ন ফাঁস বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে সাইবার আইনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন একই স্থানে অবস্থান করে নিষ্ক্রিয় থাকার প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রদবদল করা হবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ কোনো ধরনের অননুমোদিত সামগ্রী প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের গাফিলতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুকী আজম মোহাম্মদ আব্দুল সালাম, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ, কেসিসি প্রশাসক, কেডিএ চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
এসএমএস/এসআর