নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক বিএনপি নেতার পরিবারকে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় একটি সাংবাদিক সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা আসলামের বড় ছেলে ইব্রাহিম খলিল।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম খলিল অভিযোগ করেন, মুন্সীগঞ্জের আলোচিত যুবদল নেতা শান্ত হত্যা মামলা এবং গাজীপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলাসহ ১০ থেকে ১২টি মামলার আসামি শাহাদাত প্রধান। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শাহাদাত প্রধান তাদের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় শাহাদাত প্রধানের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা মোতালেব প্রধান, শাহ সুলতান গাজীসহ ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
তার অভিযোগ, হামলাকারীরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং এরপরও বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে আবারও তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ইব্রাহিম খলিল আরও অভিযোগ করেন, শাহাদাত প্রধান উল্টো তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়ে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানির চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “শাহাদাত প্রধান একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
তবে অভিযুক্ত শাহাদাত প্রধান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শান্ত হত্যা মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছিল, তবে মামলাটি পরে খারিজ হয়ে গেছে। এছাড়া ইব্রাহিম খলিল আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করেছেন। এ ঘটনায় তাকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে—এ অভিযোগও সত্য নয়।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এইচএমআর/এসআর