কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় অনলাইন জুয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন প্রবাসী মেরাজুল ইসলাম (৪৪)। শেষ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা সইতে না পেরে বিষাক্ত কীটনাশক ট্যাবলেট (কেরির বড়ি) সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত মেরাজুল ইসলাম উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের মৃত শহিদুল্লাহর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিনে মেরাজুল ইসলাম অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে প্রায় ২২ লাখ টাকা হারান। বিপুল অঙ্কের এই আর্থিক ক্ষতির কারণে তিনি চরম মানসিক চাপে পড়েন এবং বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার তিনি বিষাক্ত কীটনাশক ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আসাদপুর গ্রামে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব অ্যাপ যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জালাল পাঠান বলেন, “অনলাইন জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে লোকমুখে শুনেছি। তবে বিষয়টির সত্যতা কতটুকু, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “নিহত মেরাজুল ইসলাম ও তার এক ছেলে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা আর্থিক সংকটে পড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।”
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
কেএইচ/ এসআর