বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস (বাউস)-এর ২০তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২০ জুন প্রি-কনফারেন্স ওয়ার্কশপের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আয়োজনের মূল বৈজ্ঞানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২১ ও ২২ জুন রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে।
দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা ইউরোলজিস্টদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, তাইওয়ান, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ১৯ জন বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট অংশ নেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ৮৩০ জন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এতে নিবন্ধন করেন।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ইউরোলজি চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, নতুন গবেষণা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামের গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা। “টোটাল টিউবলেস মিনি-পিসিএনএল (Total Tubeless Mini-PCNL)” শীর্ষক প্রেজেন্টেশনে তিনি কিডনির জটিল পাথর অপসারণে ব্যবহৃত আধুনিক ও মিনিমালি ইনভেসিভ এ পদ্ধতির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ফলাফল এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় জানানো হয়, এ পদ্ধতিতে কোনো ধরনের নেফ্রোস্টমি টিউব বা অতিরিক্ত ড্রেনেজ টিউব ব্যবহার ছাড়াই জটিল কিডনির পাথর অপসারণ করা সম্ভব। ফলে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি কম হয়, হাসপাতালে থাকার সময় হ্রাস পায় এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পাশাপাশি অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম সম্মেলনের দুটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে চেয়ারপার্সনের দায়িত্বও পালন করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এ প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রয়োগ বাংলাদেশের ইউরোলজি চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে এটি রোগীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সম্মেলনে বাউসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুর রহমান, সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম, অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ডা. নাসিরুদ্দিন কাজলসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য চিকিৎসকরা গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন এবং বিভিন্ন সেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন দেশের ইউরোলজি চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি রোগীদের জন্য আরও উন্নত ও যুগোপযোগী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও এ ধরনের আয়োজন কার্যকর অবদান রাখবে।