Monday | 22 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Monday | 22 June 2026 | Epaper
BREAKING: বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর      বিশ্বকাপ ইতিহাসে মিশরের প্রথম জয়      দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে, সেটা ভাবুন: প্রধানমন্ত্রী      কেপ ভার্দের রূপকথার গল্প যেন চলছেই      কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু      মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী      অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত কারামুক্ত       

পেকুয়ায় বন উজাড়ের মহোৎসব: পিকআপ-সিএনজিতে কাঠ পাচার

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম   (ভিজিট : ৫১)

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবাধে বনজ গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এবার বন পাহারাদারদের হাতে আটক একটি গাছবোঝাই ট্রলি জব্দ না করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল টৈটং ইউনিয়নের কেরুণছড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে কাটা বনজ গাছ একটি ট্রলিতে করে পাচার করা হচ্ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসানের জুম এলাকার আবদুল হকের ছেলে আমির হোসাইনের ছেলে মনু ও সরকারমোড়ার কালু এসব গাছ পাচার করছিলেন। ট্রলিটি চালাচ্ছিলেন লাল মিয়া।

বন পাহারাদার সর্দার ফিরোজ হাসানের জুম ব্রিজের ওপর গাড়িটি আটক করে বিষয়টি টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মোমিনকে জানান। পরে বিট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে গাড়িটি বিট অফিসে নেওয়ার কথা বললেও পরে সেটি জব্দ না করে পাচারকারীদের কাছে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, সদ্য কেটে ফেলা বড় বড় বনজ গাছের গোড়া এখনো মাটিতে পড়ে রয়েছে। অনেক স্থানে কাটা গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নেওয়া হলেও গোড়ার অংশ রয়ে গেছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় সম্প্রতি এসব গাছ কাটা হয়েছে। অপরদিকে একটি ট্রলিতে মোটা মোটা গাছের গুঁড়ি বহন করতে দেখা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি গাছ পাচার সিন্ডিকেট ও কিছু অসাধু গাছ ব্যবসায়ী এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিনই টমটম, ট্রলি ও সিএনজিচালিত যানবাহনে করে পাহাড় থেকে কেটে আনা বনজ গাছ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে।

দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এসব যানবাহনে কাঠ পরিবহন চললেও কার্যকর নজরদারি ও অভিযানের অভাবে পাচারকারীরা নির্বিঘ্নে গাছ সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত উজাড় হচ্ছে পাহাড়ের বনাঞ্চল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টৈটং এলাকার অলী আহমদ ও কাশেম নামে দুই ব্যক্তিকে বিট কর্মকর্তা তাঁর অনানুষ্ঠানিক সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁদের মাধ্যমে পাহাড়ে নতুন বসতি স্থাপন, বনজ গাছ কাটা, বালু উত্তোলন এবং পাহাড় কাটার মতো কর্মকাণ্ড থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিটি টমটমে বহন করা গাছের জন্য ২০০ টাকা এবং প্রতিটি ট্রলির জন্য ৪০০ টাকা করে মাসোহারা আদায় করা হয়। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, নিয়মিত মাসোহারার কারণেই টমটম, ট্রলি ও সিএনজিতে করে কাঠ পাচারের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এ ছাড়া টৈটং গর্জনিয়া পাড়ায় মো. করিম নামে এক ব্যক্তি সংরক্ষিত বনভূমিতে পাকা ভবন নির্মাণ করলেও বিট কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নতুন বসতি গড়ে উঠছে, পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, বনজ গাছ উজাড় করা হচ্ছে। অথচ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বিপরীতে অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এলাকায় বিট কর্মকর্তাকে নিয়ে ‘শক্তের ভক্ত, নরমের যম’— এমন মন্তব্যও শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় টৈটংয়ের পাহাড়জুড়ে সেগুন, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছের ঘন বন ছিল। বর্তমানে অধিকাংশ পাহাড়ে শুধু কাটা গাছের গোড়া দেখা যায়, গাছ নেই। কোথাও কোথাও গাছ কাটার পর প্রমাণ নষ্ট করতে গোড়া উপড়ে ফেলা বা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গাছের গোড়া আছে, কিন্তু গাছ নেই; নামে আছে বন, বাস্তবে পাহাড় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ। বন বিভাগের নীরবতা ও দুর্বল নজরদারির সুযোগেই বন উজাড় ও কাঠ পাচার দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বন পাহারাদার সর্দার ফিরোজ জানান, “আমি একটি গাছবোঝাই ট্রলি আটক করে বিট কর্মকর্তাকে খবর দিই। তিনি ঘটনাস্থলে এসে গাড়িটি বিট অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসানের জুম ব্রিজ থেকে নিয়ে যান। তখন তাঁর সঙ্গে কাশেম নামে একজন ছিলেন। পরে জানতে পারি, গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে যদি বন বিভাগের লোকজনই গাছ পাচারকারীদের সহযোগিতা করেন, তাহলে পাহাড়ের বন কীভাবে রক্ষা হবে?”

তবে টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মোমিন তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এমন কোনো গাড়ি আটক করিনি। তাই ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

এদিকে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, টমটম, ট্রলি ও সিএনজিতে করে প্রতিনিয়ত পাহাড় থেকে কেটে আনা বনজ গাছ পাচার বন্ধে দ্রুত অভিযান, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বন বিভাগের ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে অচিরেই টৈটংয়ের পাহাড় থেকে অবশিষ্ট বনও বিলীন হয়ে যাবে।

এনইউ/আরএন




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close