বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে সরকারি ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত পণ্যের সঙ্গে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের অভিযোগে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় কাস্টমসের এক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল বাজার এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে বিজিবি। এ সময় গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ শাড়ি, থ্রি-পিস, চাদর, কম্বল, ওড়না ও কসমেটিকস উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ড ভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখা থেকে ৩ হাজার ২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রি-পিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল এবং ৮টি ওড়না ঢাকার ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে সহকারী কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষে মো. রাহাত হোসেন স্বাক্ষর করেন। পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী।
অভিযোগ রয়েছে, ত্রাণ ভাণ্ডারে পণ্য পাঠানোর আড়ালে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বেনাপোল বাজারের বাহাদুরপুর সড়কের মুখ থেকে ‘ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১’ নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করে বিজিবি। তল্লাশির সময় গাড়িটিতে থাকা মালামালের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ ঘটনার পর কাস্টমস হাউসের ভেতরে থাকা আরও একটি ট্রাকের গতিবিধিও নজরদারিতে নেওয়া হয়।
বর্তমানে বেনাপোল বিজিবি সদর ক্যাম্পে জব্দকৃত মালামালের তালিকা প্রস্তুত ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ সময় বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে বিজিবি ধারণা করছে, ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত পণ্যের বাইরে আরও কিছু মালামাল পরিবহনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জব্দকৃত পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ, মূল্য এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা পণ্য কাস্টমস হাউসে সংরক্ষণ করা হয়। এসব পণ্য পরবর্তীতে সরকারি বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি বা হস্তান্তর করা হয়ে থাকে। তবে বর্তমান ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর কাস্টমসের হেফাজত থেকে ১৯ কেজি ৩১৮ গ্রাম স্বর্ণ চুরির ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।
এসকেআর/এসআর