আজ ঐতিহাসিক ৭ জুন, বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ মহান ছয় দফা দিবস। বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল এ দিবসের আজ ৬০ বছর পূর্তি।
১৯৬৬ সালের এই দিনে ছয় দফা দাবির সমর্থনে সর্বাত্মক হরতালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বুলেটে বিদ্ধ হয়ে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হকধসহ ১১ জন বীর বাঙালি শহীদ হন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব বাংলার (পূর্ব পাকিস্তান) মানুষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার হয়। জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পূর্ব বাংলায় বসবাস করলেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
স্বাধিকার আন্দোলন তীব্রতর হতে থাকলে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে আগরতলা যড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর পরিকল্পনা করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। তবে আন্দোলন ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। ছয় দফা স্বাধীনতার এক দফায় রূপ নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ।
এমএ