পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প-কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে গেলেও সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে এখনো পুরোপুরি কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসেনি। তীব্র রোদ ও দাবদাহের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় সড়কে গণপরিবহনে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে।
শিল্পাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি নির্বিঘ্ন করতে আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানায় গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটি শেষে ১ জুন থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে শুরু করলেও অনেক শ্রমিক এখনো গ্রাম থেকে ফেরেননি। কিছু কারখানায় কাজের চাপ কম থাকায় শ্রমিকদের ফেরার তাড়াও কম দেখা যাচ্ছে। ফলে শ্রমিক কলোনিসহ পুরো শিল্পাঞ্চলে এখনো ঈদের আমেজ বিরাজ করছে।
এদিকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মজীবী মানুষ ধীরে ধীরে রাজধানীতে ফিরছেন। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় যাত্রীচাপ কম দেখা গেছে। তীব্র গরমের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এর প্রভাব পড়েছে অফিস-আদালত ও গণপরিবহনে। সড়কে চলাচলকারী বাসগুলোতেও যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
সাভার পরিবহনের কন্ট্রাক্টর আজমত উল্লাহ বলেন, “গাড়িতে যাত্রী তুলনামূলক কম। বেশিরভাগই লোকাল যাত্রী। এতে তেলের খরচও উঠছে না।”
যাত্রী জুলহাস মিয়া জানান, “গাবতলী থেকে পরিবার নিয়ে নবীনগর যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের বাসে উঠেছিলাম। কিন্তু যাত্রী কম থাকায় আমাদের পাকিজা এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে অন্য গাড়িতে করে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।”
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এবারের ফিরতি যাত্রায় চাপ তুলনামূলক কম থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে রাজধানীতে ফিরতে পারছেন। পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় কোথাও অতিরিক্ত ভিড় বা উল্লেখযোগ্য ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, “ঈদের ছুটি শেষে সবাই নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফিরছেন। পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ায় শ্রমিকরাও পর্যায়ক্রমে রাজধানীতে ফিরছেন। ফলে কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি। যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।”
ওএফ/এসআর