নেত্রকোনায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।
রোববার (৩১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলি কেশবপুর গ্রামের নুরজাহান (৫০), তার দুই মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৮) ও ইতি (১৫) এবং অটোরিকশাচালক রেহান মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নুরজাহান তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অটোরিকশাযোগে বাবার বাড়ি চল্লিশায় যাচ্ছিলেন। পথে ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনাগামী একটি লোকাল বাস চল্লিশা বাইপাস মোড়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নুরজাহান ও তার মেয়ে স্মৃতি আক্তারের মৃত্যু হয়।
পরে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইতিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আইনুল হক, অটোরিকশাচালক রেহান মিয়াসহ অন্যদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে রেহান মিয়ার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কান্তি সরকার এবং নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার উপস্থিত হন। এ সময় তারা চল্লিশা বাইপাস মোড়ে গোলচত্বর নির্মাণ ও দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপনের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন।
নেত্রকোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাসচাপায় প্রথমে তিনজন ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোরিকশাচালক মারা যান। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।’
নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাজহারুল আমিন জানান, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের ফ্রিজিংয়ে রাখা হয়েছে, এখনো ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি।
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল সন্ধ্যায় জানান, বাসচাপায় চারজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আহতরা নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পলাতক চালক ও সহকারীকে আটকের চেষ্টা চলছে।