এবার কোরবানির চামড়া পাচারের আশঙ্কা নেই। ফলে অধিকাংশ চামড়া ট্যানারিতে পৌঁছাবে এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি সংখ্যক চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজার এলাকায় কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যেসব স্থানে চামড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেসব কেন্দ্রের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক ও বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। তাই চামড়া পাচারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা চাই চামড়াগুলো অক্ষত রেখে সময়মতো লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করা হোক, যাতে তা রপ্তানিযোগ্য হয়।”
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে চামড়া সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে স্থায়ী অবকাঠামোয় রূপ দিতে সরকার পরিকল্পনা করছে। কাঁচা চামড়া সরাসরি রপ্তানি করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়েট ব্লু চামড়া কিংবা চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা, বেল্টসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন অনেক বেশি হয়।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বেশি বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তাই আমরা চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দিচ্ছি।”
সাভারের সিইটিপি সমস্যার সমাধান এবং হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যানারিগুলো পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে একটি চামড়াও নষ্ট না হয় এবং প্রতিটি চামড়া থেকে সর্বোচ্চ মূল্য অর্জন করা যায়।
চামড়ার মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা লবণযুক্ত চামড়ার জন্য। কোরবানির পর দ্রুত লবণ না দিলে চামড়া নষ্ট হতে শুরু করে। তাই যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা চামড়াই প্রকৃত মূল্য পাবে।
পরিদর্শনকালে তিনি ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে চামড়া নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
এদিকে ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে মোট ৩৪১টি ট্রাকে ৭৯ হাজার ২১৮টি কাঁচা চামড়া পৌঁছায়। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ছিল ৭৫ হাজার ৫১৫টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ছিল ৭০৩টি।
বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান, চামড়াবাহী ট্রাকের চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হরিণধরা এলাকা থেকে শিল্পনগরী পর্যন্ত একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিসিক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, দিন ও রাতে দুই পালায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ট্যানারিতে কাঁচা চামড়া নামিয়ে গণনা করা হচ্ছে। পরে চামড়ার লেজ ও মাথার অংশ আলাদা করে প্রতিটি চামড়ায় লবণ দিয়ে স্তুপ করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
ওএফ/আরএন