সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে ৭ দিন শিকলবন্দী ও জিম্মি থাকার পর ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে।
গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১ জেলেকে অপহরণ করে। অপহরণের তিন দিনের মাথায় অপর বনদস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময় করে তাদের কবল থেকে জেলেদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।
জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) শুক্রবার রাতে জানান, তিনি সহ অপর ১০ জেলেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী গত ৩ মে রাতে আলোরকোল এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে এবং তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখে। পরে ৫ মে শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময় করে তাদের কাছ থেকে জেলেদের নিয়ে যায় এবং আবারও অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।
তিনি আরও জানান, অবশেষে মুক্তিপণ পাওয়ার পর শরীফ বাহিনী শুক্রবার ভোর রাতে নৌকায় করে তাদের ধানসাগর–আড়িয়াবের নদীর মোহনায় এনে সুন্দরবনে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে প্রায় ৩–৪ কিলোমিটার হেঁটে তারা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান। রুবেল হাওলাদার অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর বাহিনী তাদের বেদম মারধর করেছে।
ফিরে আসা অপর জেলেরা হলেন— উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছগির (৩২), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), পাথরঘাটার পদ্মা স্লুইস এলাকার রুবেল (২৫) এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাজন ও মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, দস্যুরা প্রথমে প্রতি জেলের জন্য ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে জন প্রতি ৭০ হাজার টাকা বিকাশে পরিশোধ করার পর তারা জেলেদের ছেড়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবার বিপদে পড়ার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য পাননি। কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএস/আরএন