গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বোরো ধানসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বোরো ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সুযোগে কৃষিশ্রমিকরা দৈনিক মজুরি বাড়িয়েছে। মজুরি হিসেবে শ্রমের দাম হাঁকাচ্ছেন ১,৩০০ টাকা, যা দেড় মণ নতুন বোরো ধানের মূল্যের সমান।
এপ্রিলে খুলনার আকাশে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনেও তা থামেনি। অতিবৃষ্টিতে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার রূপসা, দাকোপ, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার প্রায় তিন হাজার কৃষক। ধান গোলায় ওঠানোর আগেই অতিবৃষ্টি খুলনার প্রান্তিক কৃষকদের লোকসানের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বোরো ধান কৃষকের গোলায় ওঠার মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ—অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে। এপ্রিল এবং মে মাসের প্রথমার্ধের বৃষ্টিতে খুলনার চাষিদের বোরো ধান ও শীতকালীন শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে খুলনা জেলার ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান ও সবজিক্ষেত ডুবে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে রূপসা, দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতে বীজতলা প্রস্তুত, রোপণ এবং এপ্রিল-মে মাসে কৃষিশ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পায়। ধান কাটার মৌসুমে দৈনিক একজন কৃষিশ্রমিকের মজুরি ছিল ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা। বর্তমানে জেলার রূপসা, ডুমুরিয়া ও তেরখাদায় ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা দিয়ে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রমঘণ্টা কিনতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত নয় বছরের মধ্যে এপ্রিলে এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত মাসে জেলায় গড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়া ১ মে ১৯ মিলিমিটার, ৩ মে ১০ মিলিমিটার, ৪ মে ৪ মিলিমিটার এবং ৫ মে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
জেলায় এবারের বোরো মৌসুমে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আবাদি এলাকা ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলায়।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ গতবারের তুলনায় দুই টাকা বেড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের মুহূর্তে সারের সংকট দেখা দেয়। তারপরও জেলায় হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের কথা জানান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুবীর কুমার বিশ্বাস।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকরা হীরা-১, হীরা-২, হীরা-১৯, সুবর্ণ-৩, ছক্কা ও সিনজেনটা-১২০৩ জাতের হাইব্রিড বোরো বীজ রোপণ করেছেন।
অধিদপ্তরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ এবং মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বোরো ছাড়াও গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মে মাসের প্রথম দুই দিনের অতিবৃষ্টিতে ধানক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ডুমুরিয়ার শিংয়ের বিল, সাহাপুর ও মধুগ্রাম এবং রূপসা উপজেলার বিল জাবুসায় বৃষ্টিতে ধানের শীষ থেকে ধান ঝরে পড়েছে। দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ৭৭০ হেক্টর জমির বোরো ক্ষেত বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রূপসা উপজেলার বাগামারা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম, মো. ওমর আলী শেখ ও আলেমান শেখ জানান, অতিবৃষ্টিতে বিল জাবুসায় তাদের বোরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
ইলাইপুর গ্রামের কৃষক মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”
এসএস/আরএন