টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে বরগুনার আমতলী উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে ফসলের ধ্বংসস্তূপ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলার হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, গুলিশাখালী, আরপাঙ্গাশিয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ঝড় ও বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাইব্রিড বোরো ধান, মুগডাল, বাদাম, মরিচ, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল। অনেক কৃষকের পুরো মৌসুমের ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে।
আমতলী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড বোরো ধান চাষ করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫৮৫ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমির মুগডালের মধ্যে ৯ হাজার ২৮৫ হেক্টর, ২৯১ হেক্টর জমির বাদামের মধ্যে ২৮১ হেক্টর, ১৮২ হেক্টর জমির মিষ্টি আলুর মধ্যে ১২০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া সূর্যমুখী ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেতও ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলার কৃষকদের প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ২৩ হাজার ৬৫০ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
হলদিয়া এলাকার কৃষক মো. রিপন বলেন, “এবার ধান, বাদাম ও মিষ্টি আলুর চাষ করেছিলাম। মৌসুমের শুরুতে খরার কারণে ক্ষতি হয়। পরে টানা বৃষ্টিতে বাদাম, মুগডাল ও মিষ্টি আলু সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ধানও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব অবস্থায় ফসল তুলছেন, আবার অনেক জমিতে বাদামগাছ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাসেল বলেন, “অধিকাংশ ধান পেকে গেছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সুযোগ পেলেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলে নিতে।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।
এএসকে/ এসআর