যশোরের মনিরামপুরে হরিহর নদ থেকে নিলামে কেনা মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মনিরামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বৃহস্পতিবার চারটি পয়েন্টে হরিহর নদ খননের মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেন। পরে সেই মাটি বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মহিউল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন, আল মামুনসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে জড়িতদের আটক ও বিচারের দাবিতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে ঘটনাটি নিয়ে যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক বলেন, মাটি বিক্রির সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হামলা চালিয়েছে, যাতে তাদের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তিনি।
অন্যদিকে, একই সময়ে মনিরামপুর পৌর শহরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মাটি বিক্রির টাকা নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এসকে/আরএন