নওগাঁয় সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ট্রাক, একটি পালসার মোটরসাইকেল, একটি ভ্যান, তিনটি শাবল, দুটি ধারালো হাসুয়া, একটি হ্যাকসো ব্লেড, একটি সুতার তৈরি বেল্ট, দুটি বড় টর্চলাইট এবং আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ সদর মডেল থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সদর উপজেলার সান্তাহার-নাটোর আঞ্চলিক সড়কের সাহাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জয়পুরহাট সদর উপজেলার আবাদপুর গ্রামের খোরশেদ মন্ডলের ছেলে আজাহার আলী (৪৫), আক্কেলপুর উপজেলার মোহাম্মদপুর প্যারাহাটি গ্রামের জামাল মন্ডলের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৪), সাইদুর রহমানের ছেলে সৈকত (৩০), নাসির উদ্দিনের ছেলে আবু হোসেন (৩৫), মৃত খোরশেদ মন্ডলের ছেলে মো. হাসান (৩০), বগুড়ার গাবতলী উপজেলার লাংলু দক্ষিণপাড়া গ্রামের আনারুল হকের ছেলে মো. রনি এবং একই গ্রামের মন্তেজারের ছেলে হামিদুল ইসলাম (৩২)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার দিবাগত রাতে সান্তাহার ঢাকা মোড় এলাকায় টহলরত পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, সাহাপুর এলাকায় ১০-১২ জনের একটি দল গরুবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য মালবাহী যানবাহন ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা বগুড়া, জয়পুরহাটসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া তারা মাটির নিচে থাকা বিটিসিএলের ইন্টারনেটের তার চুরির সঙ্গেও সম্পৃক্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
জেলা পুলিশ সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় তৎপর রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, সদর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) প্রদীপ ব্যানার্জিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকেএইচ/এসআর