বরগুনার তালতলী উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মারধরের অভিযোগ থাকলেও এ ঘটনায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে হযরত আলীসহ কয়েকজন কিশোর ফুটবল খেলছিল। এ সময় পাশ দিয়ে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় খেলার বলটি গরুর সামনে পড়লে গরুটি ভয় পেয়ে দৌড়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় শিক্ষক রহিম ঘরামীর ছেলে মুছা ঘরামীসহ কয়েকজন যুবক হযরত আলীকে মারধর করে আহত করেন।
অর্থাভাবে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায় তার চাচাকে খবর দেওয়া হয়। পরে রোববার দুপুরে ঢাকা থেকে এসে তিনি হযরত আলীকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা আছিয়া বেগম, যিনি একজন বিধবা ও দরিদ্র নারী, ছেলের মৃত্যুর আগে ও পরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন—তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে রাতে থানায় এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি দুর্ঘটনা নয়; মারধরের কারণেই কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, আর্থিক ও সামাজিকভাবে অসহায় হওয়ায় এবং বিভিন্ন চাপের কারণে নিহতের মা অপমৃত্যু মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্বজন জানান, হযরত আলী তার মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। ছেলেকে হারিয়ে তিনি ভেঙে পড়েছেন। একই সঙ্গে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও আর্থিক প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, নিহতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউডি মামলা রুজু করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আঘাতের প্রমাণ মিললে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচএম/এসআর