ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
দিনে দিন হচ্ছে ফাঁকা হচ্ছে জয়কুমোর আবাসন প্রকল্প
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম
X

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ারচর জয়কুমোর গ্রামে গৃহহীন, ভূমিহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নির্মিত সরকারি আবাসন প্রকল্প এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই শতাধিক ঘরের এই আবাসনে বর্তমানে অধিকাংশ ঘরই ফাঁকা পড়ে আছে। বাসিন্দারা একে একে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ায় অনেক ঘরে তালা ঝুলছে। আর এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

দ্রুত তদন্ত করে পরিত্যক্ত ঘরগুলো প্রকৃত গৃহহীনদের মধ্যে পুনর্বণ্টন এবং আবাসনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ঘরগুলো কেউ গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন, আবার কেউ গরু-ছাগল পালন করছে। নতুন উপকারভোগী অনুমোদন না থাকায় ফাঁকা ঘরগুলো অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারের এই বড় প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে। 

জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে উপজেলা প্রশাসন উপকারভোগীদের মধ্যে ঘরের চাবি, কবুলিয়ত দলিল, নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করে। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাজের সন্ধানে অধিকাংশ পরিবার আবাসন ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে মাত্র অর্ধশতাধিক পরিবার সেখানে বসবাস করছে।

উপকারভোগী বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং নিচু জমিতে ঘর নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘরের ভেতর-বাইরে পানি জমে থাকে, চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে। এছাড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে ট্যাংকি উপচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফলে শিশু-বৃদ্ধসহ বসবাসকারীরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। 

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে চরম দুরাবস্থা। এলাকার একমাত্র কালুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি ভেঙে পড়ে থাকায় উপকারভোগী বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বসানো ১৬টি নলকূপের বেশির ভাগই অযত্নে অকেজো হয়ে গেছে।

আবাসনের উপকারভোগী বাসিন্দা হযরত আলী ও ছলিমুদ্দিন বলেন, সরকার ঘর দিলেও এখনে দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় এলাকা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার খুব প্রয়োজন।

অন্যদিকে ওই এলাকার ভূমিহীন স্বপ্না (২৮), জয়ফুল (৬০) ও আঞ্জু বেগম (৩৫) বলেন, ধরলা নদীতে আমাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে গ্যাইছে (গেছে)। এখন অন্যের বাড়িত থাকি। অথচ অনেকেই আবাসনের ঘর পেয়েও থাকে না। যদি হামার (আমাদের) ব্যবস্থা করে দিতো, তাহলে উপকার হতো।

ছিনাই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান বলেন, 'অনেকেই কাজের জন্য ঢাকায় চলে যায়, দীর্ঘদিন না থাকায় ঘরগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কাউকে ঘর দেওয়া সম্ভব নয়।'

ছিনাই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আহসান হাবীব মিন্টু বলেন, 'আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, 'জয়কুমোর আবাসন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। পরিত্যক্ত ঘরগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত গৃহহীনদের মাঝে পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যে জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'

পিএম/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝