বরগুনার আমতলী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত আব্দুল গনি মোল্লা বর্তমানে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের ঈসমাইল খানের সঙ্গে মো. নাসির উদ্দিন বধু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ জমিটি ২৬ নম্বর দক্ষিণ রাওঘা মৌজার এসএ ৫২ নম্বর খতিয়ানের ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নম্বর দাগভুক্ত ৫.২৩ একর জমি। এ নিয়ে ২০১৪ সালে বরগুনার সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা (নং-২০৪/২০১৪) দায়ের করেন ঈসমাইল খান।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৯ এপ্রিল। ওইদিন বাদী ঈসমাইল খান সাক্ষী আব্দুল গনি মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে বরগুনা আদালতে যান এবং তিনি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাক্ষ্য দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আমতলীর তালুকদার বাজার এলাকায় পৌঁছালে মামলার আসামি নাসির উদ্দিন বধু ও তার ছেলে ইশাদুল আব্দুল গনি মোল্লার ওপর হামলা চালান। তারা কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
এ সময় গনি মোল্লার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা তাকে সড়কের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল গনি মোল্লার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার স্বাক্ষী ৭০ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল গনি মোল্লা বলেন, আমি স্বাক্ষী দিয়ে বাড়ীতে আসার সময় বধু খা ও তার ছেলে ইশাদুল আমাকে মারধর করে আহত করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বধূর কাছে জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভভ হয়নি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ওই বিষয়ে এখনো থানায় কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএসকে/ এসআর