জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন পঞ্চগড়ের সিনিয়র সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ রেচন অঙ্গ নামে পরিচিত দুটি কিডনীই তার বিকল হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বেঁচে রয়েছেন। অর্থের অভাবে ডায়ালাইসিসও এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
বিত্তবান দেশবাসীসহ সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
নরওয়ে প্রবাসী বড় ভাই বিভিন্ন ব্যক্তি, বন্ধুবান্ধব, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন সহযোগিতা করেছেন। সেই সহযোগিতায় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সে সহযোগিতাও শেষ।
এদিকে, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় প্রেস ক্লাব এই গণমাধ্যম কর্মীর চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। তারা সভা করে এই গণমাধ্যম কর্মীর চিকিৎসা সহায়তায় সমাজের বিত্তবান সহৃদয়বান ব্যক্তি, সংগঠন ও সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
তিন ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। ছেলে-মেয়েরা এখনো লেখাপড়া করছে। বড় দুই ভাই প্রতিথযশা মফস্বল সাংবাদিক। তাদের লেখালেখিতে সহযোগিতা করতে গিয়েই সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে এনজিও'র চাকরিতে যোগদান করলেও ভাল লাগেনি সেই চাকরি।
স্বাধীন পেশা সাংবাদিকতা করার প্রবল ইচ্ছা আর লেখালেখি করার আগ্রহে যোগ দেন এই পেশায়। পরিশ্রম আর নির্ভিকতার কারণে অল্প দিনেই তিনি জেলায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিখ্যাত গণমাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাক এবং এনটিভিতে কর্মরত রয়েছেন।
এর আগে সমকাল, যুগান্তরসহ দেশ সেরা পত্রিকায় জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। একাধিকবার পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এই গণমাধ্যম কর্মী।
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ জানান, চার বছর আগে হঠাৎ শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডাক্তার তার দুটি কিডনীই বিকল বলে জানান। তাঁর বেঁচে থাকার মাত্র দুটি উপায় রয়েছে এখন। একটি ডায়ালাইসিস অন্যটি কিডনী ট্রান্সপ্লান্ট। তিনি এখন ডায়ালাইসিস করছেন। সপ্তাহে তিন দিন তাকে ডায়ালাইসিস করতে হয়। এর জন্য প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে কিডনী ট্রান্সপ্লান্ট করলে যেতে হবে বিদেশে। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬০ লাখ টাকা। তার প্রবাসী বড় ভাই, বন্ধুবান্ধব, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন অবশ্য সহযোগিতা করেছেন।
তিনি জানান, তার স্থাবর অস্থাবর কোন সম্পদ নেই। আছে শুধু একটা বাড়ি। তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ আর পরিবারের খরচ চালিয়ে নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না তিনি। ডাক্তারের নির্দেশনায় সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করার কথা থাকলেও অর্থের অভাবে দুই দিন করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় চিকিৎসায় মহাসংকটে রয়েছেন তিনি।
চোখের পানি মুছে তিনি জানান, ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাই। অন্তত: সেই সময়টুকু বেঁচে থাকতে পারলে মরেও শান্তি পেতাম। বড় ছেলে কলেজে, ছোট ছেলে মাধ্যমিকে, মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, অত্যন্ত জনপ্রিয় এই গণমাধ্যম কর্মী আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। প্রয়োজন দেশবাসী আর সরকারের সহযোগিতা। তার ব্যক্তিগত নগদ ও বিকাশ একাউন্টে সহৃদয়বান বিত্তবান দেশবাসী ও কামনা করেছেন তিনি। তার বিকাশ ও নগদ একাউন্ট ০১৭২০০২৫৪৫৫, পূবালী ব্যাংক পঞ্চগড় শাখায় তার একাউন্ট: সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, ৩৩৪৮১০১০২৭১৪৬।
এসআই/এমএ