মেঘের পাড়ে সূর্যশাড়ি
মনিরুজ্জামান বাদল
সারল্যের শব্দে শস্য বুনে–খেলার সাথী
বাতাসের পিঠে বসে খোলা মাঠে হারিয়ে যাই
আমার শৈশব কোথায় যায়!
–আদিত্যের সন্তান আমি ভালোবাসি রোদ্দুর
মায়ের স্তনের বোটা কামড়ে দিয়ে খিলখিল হাসি বারবার চুষি আমার জীবন
ঘুমিয়ে যাই অনায়সে দোষ কী তাতে–ঘুরবো আমি জনম ধরে;
আবেগের ঝড়-বাতাসে পাতারা দোলে ফুলের গন্ধে মাতাল হাওয়ায় হারিয়ে যাই
আমার যৌবন কোথায় যায়!
–সামান্য এক ঝিলিক নিয়ে কত্তো বড়াই!
ঘুড়ির সনে মন বেঁধে দেই
সুখে সুখে উড়তে উড়তে দুঃখ নিয়ে
আমার সময়–পিঠ ঠেকে যায়
বালুর চরে;
মনের উজানে কাদা ছেনে শিল্প গড়ি স্রোতের টানে জলে ভাসি ঢেউয়ের রেখা হারিয়ে ফেলি
আমার প্রৌঢ় কোথায় যায়!
–বন্ধু আমার কাচের বাসন সাজিয়ে রাখে
সোকেজভরা মরা জীবন
সব ভেঙে যায় সময় শেষে ঝরঝর ঝরে
স্বপ্নফানুস উড়ে যায় সে–ওর ঠিকানা
ঐ-ই জানে;
সুন্দর মনে ডুবে দেখি সারাবেলা
ভাপওঠা ভাতের গন্ধে–জীবন খুঁজি
মেঘের মাঝে হারিয়ে যাই যখন যেমন–যে ঝড় আসে উথাল-পাথাল গেঁথে রাখি মেঘের পাড়ে
সূর্যশাড়ি।
১২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা।