কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কৃষিতে যুক্ত হলো এক নতুন সম্ভাবনা। প্রথমবারের মতো এখানে শুরু হয়েছে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন এবং লাভজনক পথ খুলে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাটমাধাই গ্রামের কৃষক রাসেল আহমেদের পেঁয়াজ ক্ষেত পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, ক্ষেতজুড়ে সবল ও সুস্থ পেঁয়াজের গাছ। গত ডিসেম্বর মাসে তিনি প্রায় ৬০ শতক জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেন। প্রতিদিন ১০–১২ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। এপ্রিল মাসের শুরুতেই কিছু বীজ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। তবে মাসের মাঝামাঝিতে সম্পূর্ণভাবে বীজ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগ শুধু রাসেল আহমেদের জন্য নয়, স্থানীয়দের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। এই পেঁয়াজের ক্ষেতে কাজ করে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
পেঁয়াজ চাষী রাসেল আহমেদ বলেন, “এতদিন ধান ও আলু চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বিকল্প কিছু করার চিন্তা করে এবার সাহসী উদ্যোগে পলিক্রস জাতের পেঁয়াজের বীজ রোপণ করেছি। শখের জন্যই শুরু করেছিলাম। আগামীতে আরও বড় পরিসরে চাষ করব। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লাভের আশা করছি।”
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুন্নাহার সাথী বলেন, “কুড়িগ্রামে এবারই প্রথম পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আগে এই বীজ ফরিদপুর থেকে সংগ্রহ করতে হতো। এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে খরচ কমবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল এবং কুড়িগ্রামের আবহাওয়া এই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”
পিএম/আরএন