কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ শুরু হওয়া দমকা ঝড়ো হাওয়া ও থেমে থেমে শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের আম, লিচু ও ইরি-বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তবে ঝড়ের কবলে পড়ে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীরা জানান, রাতের অন্ধকারে আচমকা ঝড় শুরু হলে ঘরের বাইরে থাকা গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে আম ও লিচুর মুকুল ঝরে পড়ে এবং গাছের ডালপালা ভেঙে যায়। অনেক জায়গায় ক্ষেতের ইরি-বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ফলে উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
এছাড়াও তিস্তার চরাঞ্চলের পেঁয়াজ, মরিচ, বাদাম, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে কোমল গাছপালা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চর গতিয়াসাম এলাকার কৃষক বেলাল (৫৮) ও আবুল কালাম (৫০) বলেন, “শুক্রবার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমাদের প্রায় ৪ বিঘা জমির পেঁয়াজ ও মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে।”
চাকিরপশার তালুক হাজিপাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম (৪৫) বলেন, “শুক্রবার রাতে শিলাঝড়ে আমার এক বিঘা জমির ভুট্টা সব মাটিতে পড়ে গেছে। গত বছর ওই জমিতে ৪০ মণ ভুট্টা হয়েছিল। এবার মনে হয় দুই মণও পাব না।” একই কথা বলেন পাশের ভুট্টা ক্ষেতের কৃষক হারুন মিয়াও।
সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, হঠাৎ এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা প্রস্তুত থাকার সুযোগ পাননি। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, ফলে এখন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির আভাস পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পিএম/আরএন